বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চলমান সংকট সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, এলএনজি সরবরাহে নানা জটিলতা এবং দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চাপ বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও।জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ায় উৎপাদন ব্যবস্থায় দেখা দিচ্ছে নানা সমস্যা। ফলে কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে এবং শিল্পকারখানাগুলোও স্বাভাবিক উৎপাদন চালিয়ে যেতে সমস্যার মুখে পড়ছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার তুলনায় নিজস্ব উৎপাদন পর্যাপ্ত না হওয়ায় আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ও সরবরাহে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলেই এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায়।এদিকে সংকট মোকাবিলায় সরকার এলএনজি আমদানি, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাশাপাশি দেশের সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান এবং নতুন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাময়িকভাবে আমদানি বাড়িয়ে সংকট মোকাবিলা করা গেলেও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজস্ব গ্যাস ও তেল অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে বহুমুখী উৎস তৈরি করা প্রয়োজন।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করতে না হয়, সে বিষয়েও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তবে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থিতিশীল রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।