জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় আমন মৌসুমকে সামনে রেখে সারের বাড়তি দাম নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। সরকার নির্ধারিত মূল্যে প্রয়োজনীয় সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেক কৃষক।
এতে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ করতে না পারায় ফলন নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমন মৌসুমে ধানের জমিতে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বাজারে চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ায় অনেক কৃষককে অতিরিক্ত দামে সার কিনতে হচ্ছে। এতে ধান চাষে তাদের খরচ আগের তুলনায় বেড়ে যাচ্ছে।কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রির কথা থাকলেও কিছু ব্যবসায়ী সুযোগ বুঝে বাড়তি দাম নিচ্ছেন।
আবার কোথাও কোথাও প্রয়োজনীয় সার পাওয়া গেলেও কৃষকদের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বাজারে চাপ তৈরি হচ্ছে।একজন কৃষক বলেন, ধান চাষে বীজ, শ্রমিক, সেচ, কীটনাশক ও সারসহ প্রতিটি খাতেই খরচ বেড়েছে। এর মধ্যে সারের দাম বেশি হলে উৎপাদন খরচ আরও বাড়বে। কিন্তু বাজারে ধানের ন্যায্য দাম না পেলে শেষ পর্যন্ত লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।কৃষকরা দ্রুত বাজারে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি হচ্ছে কি না, তা কঠোরভাবে তদারকির দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কেউ যাতে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে না পারে, সে বিষয়েও প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমন মৌসুমে সারের সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি হলে তা উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সার সরবরাহ এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি।স্থানীয় কৃষকদের আশা, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপে সারের বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং কৃষকরা নির্ধারিত দামে প্রয়োজনীয় সার কিনতে পারবেন।