বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানির সংকটে পড়েছেন নাটোরের বাগাতিপাড়ার পাটচাষিরা। উপজেলার খাল-বিল ও নিচু জমিতে প্রয়োজনীয় পানি না থাকায় সময়মতো পাট কাটার পরও জাগ দিতে পারছেন না অনেক কৃষক। বাধ্য হয়ে কেউ পুকুর ভাড়া নিচ্ছেন, আবার কেউ নদী বা দূরের জলাশয়ে পাট জাগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে পাট উৎপাদনের পর জাগ দেওয়ার জন্য কৃষকদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে বর্ষার পানিতে খাল-বিল ও নিচু জমি ভরে যায়। এসব জায়গায় সহজেই পাট জাগ দেওয়া সম্ভব হয়। কিন্তু চলতি মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেক খাল-বিল ও জলাশয়ে পানি জমেনি। ফলে পাট কাটার পর জাগ দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।কৃষকরা জানান, এক বিঘা জমির পাট জাগ দিতে প্রায় দুই হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। কেউ কেউ পুকুরের মালিককে টাকা দিয়ে পাট জাগ দিচ্ছেন। আবার নদী বা দূরের কোনো জলাশয়ে পাট নিয়ে যেতে পরিবহন খরচও গুনতে হচ্ছে। এতে পাট চাষে তাদের মোট উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বাগাতিপাড়ায় প্রায় ৯০১ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গত মৌসুমের তুলনায় এবার পাটের আবাদ বেড়েছে। গত মৌসুমে প্রায় ৮১৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছিল। ফলে এবার পাটের আবাদ বাড়লেও পানি সংকটের কারণে জাগ দেওয়া নিয়ে নতুন সমস্যায় পড়েছেন কৃষকরা।স্থানীয় কৃষকদের একজন জানান, চলতি মৌসুমে পাটের ফলন ভালো হয়েছে এবং বাজারদরও তুলনামূলক ভালো। কিন্তু জাগ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পানি না থাকায় অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হচ্ছে। এতে পাট বিক্রি করে যে লাভের আশা করেছিলেন, তার একটি অংশ জাগ দেওয়ার খরচেই চলে যাচ্ছে।আরেক কৃষক জানান, তিনি নিজের জমিতে পাট চাষ করার পর জাগ দেওয়ার জন্য পুকুর ভাড়া নিয়েছেন। পুকুরে পাট জাগ দেওয়ার পাশাপাশি পাট বহন করে নেওয়া ও শ্রমিকের খরচও রয়েছে। সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচের সঙ্গে নতুন করে এই ব্যয় যুক্ত হওয়ায় কৃষকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।এদিকে স্থানীয় পাট ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি বছর পাটের ফলন ভালো হওয়ায় বাজারে পাটের সরবরাহও রয়েছে। বাজারদর তুলনামূলক ভালো থাকায় কৃষকরা পাট বিক্রি করে কিছুটা লাভবান হচ্ছেন। তবে জাগ দেওয়ার বাড়তি খরচের কারণে সেই লাভ কমে যাচ্ছে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পানির সংকটের কারণে বিভিন্ন এলাকায় পাট জাগ দিতে কৃষকদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় পানি পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে নিরাপদ ও সঠিক পদ্ধতিতে পাট জাগ দেওয়ার বিষয়ে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।কৃষকরা জানান, পাট কাটার সময় প্রায় শেষের দিকে চলে এসেছে। এ সময়ে দ্রুত পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে অনেক কৃষক উপকৃত হবেন। পাশাপাশি খাল-বিল ও নিচু জমিতে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করা গেলে ভবিষ্যতে পাট জাগ দেওয়ার সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।কৃষকদের দাবি, পাট বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। তাই পাট চাষে কৃষকদের উৎসাহ ধরে রাখতে জাগ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় প্রতিবছর পানির সংকটের কারণে তাদের উৎপাদন ব্যয় বাড়তে থাকবে।
পানি সংকটে পাট জাগ দিতে ২ হাজার টাকায় পুকুর ভাড়াবাগাতিপাড়া।